বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০

কার্তিক ৬ ১৪২৭

ই-পেপার
দৈনিক আমার সংবাদ :: Daily Amar Sangbad বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০ | কার্তিক ৬ ১৪২৭

ভার্চুয়াল কোর্টের নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরী

Writter

শরিফ রুবেল

২২:১৩, ১১ মে ২০২০   আপডেটঃ ১৯:৪৯, ১৩ জুন ২০২০

ভার্চুয়াল কোর্টের নিরাপত্তা বাড়ানো জরুরী

*দুর্বল ওয়েব সাইটে চলবে কার্যক্রম *তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে কোনো ব্যবস্থা নেই*সাইটে নেই তথ্য সুরক্ষার ডিসক্লেইমারও*সাইবার ঝুঁকি এড়াতে এইচটিটিএস ব্যবহার জরুরী*সময় নিয়ে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কার্যক্রম শুরুর দাবি আইনজীবীদের*এনআইডি নয় বারের পরিচয়পত্র ইনপুটের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের করোনাভাইরাস। মহামারি ভাইরাসটির কারনে দীর্ঘদিন আদালত

*দুর্বল ওয়েব সাইটে চলবে কার্যক্রম *তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে কোনো ব্যবস্থা নেই*সাইটে নেই তথ্য সুরক্ষার ডিসক্লেইমারও*সাইবার ঝুঁকি এড়াতে এইচটিটিএস ব্যবহার জরুরী*সময় নিয়ে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কার্যক্রম শুরুর দাবি আইনজীবীদের*এনআইডি নয় বারের পরিচয়পত্র ইনপুটের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের করোনাভাইরাস। মহামারি ভাইরাসটির কারনে দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ রয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে মামলাজট।ভোগান্তিতে পড়েছে বিচারপ্রার্থীরা। মামলাজট ও ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে কোর্ট চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ জারি ও হাইকোর্ট রুলস পরিবর্তন করে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য ইতোমধ্যে অবকাঠামোগত ও টেকনিক্যাল সার্পোটও তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনলাইনে জামিন আবেদনের জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। বিপত্তি ঘটে এখানেই। কারণ বর্তমান সাইবার অপরাধের জগতে পোর্টালটি মোটেও সুরক্ষিত নয়। অপেক্ষাকৃত দুর্বল ওয়েব সাইটে তথ্য সংযুক্ত করলে হ্যাকিংয়ের কবলে পড়ে তথ্য চুরির সম্ভাবনা তৈরী হতে পারে। ফলে আপত্তি সৃষ্টি হয়েছে বিচার সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে। ভার্চুয়াল আদালতে বাদী ও বিবাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবীদের (mycourt.judiciary.org.bd) ওয়েব সাইটের মাধ্যম নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর থেকে শুরু করে মা, বাবা, স্ত্রী, স্বামী,জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এমনকি স্বাক্ষর পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ সাইটের কোথাও কোন তথ্য সুরক্ষার বিষেয়ে ডিসক্লেইমার নেই। নেই কোনো সুরক্ষার অধিকতর ব্যবস্থা বা নিশ্চয়তা। সাইটিও সুরক্ষা নিশ্চতে যথেষ্ট শক্তিশালি নয়। ফলে যেকোনো সময় সাইবার অপরাধীরা আইনজীবীদের ব্যাক্তিগত তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিবন্ধনে ব্যাক্তিগত তথ্য চাওয়া হলেও সেটা সুরক্ষিত থাকবে কিনা, সে বিষয়েও এখনো সুনিদৃষ্টভাবে জানানো হয়নি। ফলে আতঙ্কে রয়েছে আইনজীবীরা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার জগতে এমন আনাড়ি সাইট কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা অনেক বেশি সক্রিয় বিশ্বব্যাপি। কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাইটে এত তথ্য দেয়া হলে কোনো কারণে সাইট হ্যাক হলে কিংবা যেকোন উপায়ে এ তথ্য চুরি হলে ওই ব্যাক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ একটি তথ্যের সাথে তার অনেক কিছুই জড়িত তার ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, লেনদেন থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই। তারা বলেন, র্ভাচুয়াল কোর্টের সাইটটিতে এইচটিটিপিএস (https-Hypertext Transfer Protocol Secure) হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল সিকিউরড সমৃদ্ধ নয়। এ ধরনের নিরাপত্তা না থাকলে সেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় সহজেই হ্যাকারা সবার তথ্য নিয়ে নিতে পারবে। এইচটিটিপিএসযুক্ত ওয়েবপেজে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড প্রভৃতি সুরক্ষিত রাখার জন্য এনক্রিপশনের বিশেষ লেয়ার যুক্ত থাকে। কিন্তু এই সাইটে এটা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তারা পরামর্শ দিয়ে বলেন, অনলাইন কোর্টের সাথে যুক্ত সবার নিরাপত্তার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ সাইটে একজন আইনজীবীর শুধু তার বার এবং সদস্য নম্বর দেয়া থাকলে এবং এ সদস্য নম্বরের সাথে সংশ্লিষ্ট বারের অর্ন্তভুক্ত সদস্য নম্বর অটো যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা থাকাই অধিক যুক্তিসংগত বলে মনে হয়। এছাড়া এনআইডিএর বদলে বারের সদস্যের পরিচয়পত্র ইনপুট দেয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন এসব বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, জামিন শুনানির জন্য নির্ধারিত সাইটটির কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে র্ভাচুয়াল কোর্টের মত অধিক পাবলিক ওরিয়েন্টেড সাইটে বেশি ব্যক্তিগত তথ্যের ইনপুট দেয়া অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুপ্রিমকোর্ট সুত্রে জানা যায়, নির্ধারিত ওয়েব পোর্টালে জামিন আবেদন, শুনানি সবই হবে। ইমেইলে শুনানির সময় জানিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের লিংক পাঠানো হবে আইনজীবীকে। এসএমএসে দেয়া হবে অ্যালার্ট। নির্দিষ্ট সময়ে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্ত হবেন ভিডিও কনফারেন্সে। শুরুতে এ পদ্ধতিতে শুধু জামিন আবেদন দাখিল, শুনানি, ও বেইল বন্ড দাখিলের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা। পরে অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমও পরিচালনার সুযোগ সেখানে রাখা হয়েছে। এইচটিটিপিএস অর্থ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এইচটিটিপিএস এনক্রিপশন থাকলে যেকোন পেইজ বা সাইট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে। এনক্রিপশন ডিজিটাল ভাবে ডাটাগুলো একত্র করে গোপনীয়তা বজায় রেখে ইউজার ডিভাইস থেকে অনলাইট সার্ভারে স্থানান্তর করে। যা তথ্যগুলো অন্যকারো নজরদারী থেকে রক্ষা করে। যে সকল সাইটের এড্রেস এইচটিটিপিএস দিয়ে শুরু হয় সেগুলোতেই তথ্য পেডলক থাকে। এইচটিটিপিএস এর ‘এস’ দিয়ে পেইজটি নিরাপদ বুঝানো হয়। কিন্তু সময় এবং খরচ বাচাঁতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে এনক্রিপশন যুক্ত করাকে ঝামেলা মনে করেন।এবং ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে সাইটগুলো। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার শিহাব উদ্দিন খান আমার সংবাদকে বলেন, নতুন প্রবর্তিত ব্যবস্থায় তথ্য সুরক্ষাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট থেকে যে Practice Direction ইস্যু করা হয়েছে সেখানে নানা বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। যেগুলো দুর করা উচিত। এই ব্যবস্থায় যদি মামলার তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা আদালতের আদেশ সমূহের তথ্য অনিরাপদ থাকে বা চুরি- জালিয়াতির ঝুঁকিতে থাকে তাহলে নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিয়ে সর্বোচ্চ মানসম্মত পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যাতে আইনজীবীদের কোনো প্রকার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না হয়। এ আইনজীবী পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আরো কিছুদিন সময় নিয়ে হলেও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত করে কার্যক্রম আরম্ভ করতে করা উচিত। মনে রাখতে হবে এখানে বিচার প্রার্থীদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তি ও আদালতের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাইবার এক্সপার্ট সুপ্রিমকোর্টের আরেক আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম বলেন, নতুন তৈরী করা ওয়েব সাইটটিতে ব্যক্তিগত এতো তথ্য দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করা উচিত হয়নি। তাই আশা করব এখনো যেহেতু পরীক্ষামূলক সংস্করণে আছে তাই সাইটটিতে আরও সংস্কার করে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান কমিয়ে তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি জোরদার করতে হবে। না হলে র্ভাচুয়াল কোর্টের যে সুফল আমরা চাচ্ছি তা ভেস্তে যেতে পারে। এ বিষয়ে সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও বিইউবিটির সিইসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর জোহা বলেন, আদালতের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। দুর্বল সাইটে তথ্য চুরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর হ্যাকাররা দুর্বলতাকে সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে। সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন চাইলে সরকারী কোন সংস্থার মাধ্যমে শক্তিশালি ওয়েব সাইট তৈরী করতে পারে তাতে আইনজীবী থেকে শুরু করে বিচার সংশ্লিস্ট সবাই নিরাপদ থাকবে। ইন্টারনেটে অবারিত নজরদারিতে আমাদের প্রায় কোনো তথ্যই গোপন থাকছে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক, অ্যাপস, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন- ইন্টারনেট সংশ্নিষ্ট সব সেবাই আমাদের কর্মকাণ্ড নজরদারিতে রাখছে হ্যাকাররা। জেনে অথবা অজান্তে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের ট্র্যাকিংয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। অনলাইন বিশ্বে নিরাপদ থাকতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাকবচ জরুরি। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের সব অধস্তন (নিম্ন) আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুধুমাত্র জামিন শুনানির নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এদিকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। আর সেই লক্ষ্যে মামলার শুনানির জন্য হাইকোর্টে তিনটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বেঞ্চ আপিল শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানেরে নেতৃত্বে থাকবে একটি বেঞ্চ। যেখানে অতি জরুরি সকল প্রকার রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং এ সংক্রান্ত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। আরেকটি বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। যেখানে অতি জরুরি সকল প্রকার ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চে অন্যান্য মামলার শুনানির জন্য নির্ধারণ করবেন। শনিবার (৯ মে) আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। ফলে ভিডিও কনফারেন্সসহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালত পরিচালনার পথ খুলে যায়। এতে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় প্রদানকালে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত থাকতে পারবেন। আমারসংবাদ/এসআর/এআই##!!##

আমার সংবাদ

Lifebouy
ads
Lifebouy
Capture
Capture